ভোলা–বরিশাল সেতু: “আর অপেক্ষা নয়, এখন সময় বাস্তব পদক্ষেপের” — প্রকৌশলী আসফি রায়হান

ভোলা–বরিশাল সেতুর প্রয়োজনীয়তা আজ আর কাউকে নতুন করে বোঝানোর প্রয়োজন নেই—এমন মন্তব্য করেছেন ভোলার লালমোহনের সন্তান, প্রকৌশলী আসফি রায়হান। এক আলাপচারিতায় তিনি তুলে ধরেছেন ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি, অনিশ্চয়তা এবং স্বপ্নভঙ্গের বেদনাগুলো।

প্রতিদিন নৌপথ নির্ভর করে যাতায়াত করা মানুষের দুর্ভোগ সম্পর্কে তিনি বলেন,
“যারা নৌপথে চলাফেরা করেন, তাদের কষ্টটা ভাষায় বোঝানো যায় না। আমি নিজে ভোলার মানুষ, তাই এই কষ্ট আমার কাছে ব্যক্তিগত। প্রায় ২০ লাখ মানুষ এখনও নৌ-নির্ভর জীবনে আটকে আছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে যাতায়াত সহজ, কিন্তু একটু ঝড় বা কুয়াশা পড়লেই আমরা দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই।”

জরুরি রোগী পরিবহনের ভয়াবহ বাস্তবতা

রাতের অন্ধকারে অসুস্থ রোগীকে স্পিডবোট বা লঞ্চে তুলতে হয়—এমন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তার ভাষায়,
“যারা সেই পথ পাড়ি দিয়েছে, শুধু তারাই জানে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এটি। সেতুর অভাবে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে কত মানুষ বিপদে পড়েছে তার হিসাব নেই। প্রায়ই এসব বেদনাদায়ক গল্প শুনি।”

অর্থনীতিতে স্থবিরতা

ভোলার অর্থনীতির সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে তিনি সেতুর অনুপস্থিতিকে তুলে ধরেন।
“কৃষক ফসল বাজারে তুলতে পারে না, উদ্যোক্তারা পণ্য পাঠাতে পারে না। আবহাওয়া খারাপ হলে গোটা জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে দাঁড়ায়। আমরা সম্ভাবনা দেখি—কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি দেখি না।”

দীর্ঘ প্রতিশ্রুতির হতাশা

বছরের পর বছর ধরে সেতুর প্রতিশ্রুতি শুনে শুনে মানুষ ক্লান্ত—এমনই মন্তব্য করেন প্রকৌশলী আসফি রায়হান।
“অনেকদিন ধরে শুনছি—‘সেতু হবে’, ‘শিগগির কাজ শুরু হবে’। কিন্তু বাস্তবে চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি নেই। মানুষ অতিরিক্ত কিছু চায় না; শুধু দেশের অন্য জেলার মতো স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা চায়।”

সেতু হলে কী বদলাবে

সেতু হলে ভোলা–বরিশাল–ঢাকা রুট সংক্ষিপ্ত হবে, সমৃদ্ধ হবে পুরো অঞ্চল—এমন বিশ্বাস তার।
তিনি বলেন,
“চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, শিল্প, পর্যটন—সবকিছু বদলে যাবে। বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান হবে, মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। সময় বাঁচবে, খরচ কমবে, অর্থনীতি গতি পাবে।”

“এটি শুধু একটি সেতু নয়—ভোলাবাসীর অধিকার”

তার বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি জোর ছিল একটি বার্তায়—
“ভোলা–বরিশাল সেতু শুধু অবকাঠামো নয়; এটি আমাদের অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যতের প্রতীক। যারা প্রতিদিন অনিশ্চয়তার নৌপথে যাতায়াত করে, তারা এই সেতুর মধ্যেই নিশ্চিন্ততা দেখতে পায়। নতুন প্রতিশ্রুতি নয়—এখন দরকার দৃশ্যমান অগ্রগতি।”

শেষ কথায় দৃঢ় অবস্থান

আলোচনার শেষে তিনি আরও স্পষ্টভাবে বলেন,
“ভোলার মানুষ অনেকদিন অপেক্ষা করেছে। এখন সময় বাস্তব পদক্ষেপের। ভোলা–বরিশাল সেতু আর কোনো বিলম্ব সহ্য করতে পারবে না।”

3.8 4 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments

SHARES

ফেসবুকে অনুসরণ করুন

আরো পোস্টঃ

দিল্লির রাস্তায় ‘স্টেপ ডাউন ইউনুস’: দক্ষিণ এশিয়ার নতুন রাজনৈতিক বার্তা?

দিল্লির রাস্তায় ‘স্টেপ ডাউন ইউনুস’: দক্ষিণ এশিয়ার নতুন রাজনৈতিক বার্তা? দিল্লির রাস্তায় ঝুলে থাকা ব্যানারগুলোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই

Read More

উদ্বোধনী দিনে রিকশাচালক ভাইদের অভূতপূর্ব আনন্দ-জোয়ার দেখল আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়াম।

নিজস্ব প্রতিবেদক উদ্বোধনী দিনে রিকশাচালক ভাইদের অভূতপূর্ব আনন্দ-জোয়ার দেখল আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়াম। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ অর্ধদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো রিকশাচালকদের জীবনমান

Read More
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x